মঙ্গলবার ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ - ১৩:৩৬
ভালো উপদেশ কখনো কখনো শিশুদের লালন-পালনে কেন কার্যকর হয় না?

হাওজা / যেসব পিতা-মাতা নিজের আচরণে মহানুভবতার নৈতিকতা মেনে চলেন না, তারা নির্দেশনা ও উপদেশের মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে এই নৈতিকতা স্থানান্তর করতে পারেন না। লালন-পালনে কাজের প্রভাব কথার চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। যে নিজে মহানুভব আচরণ করে না, সে মহানুভবতা শিক্ষাও দিতে পারে না; কারণ কথার কার্যকারিতার রহস্য লুকিয়ে থাকে চরিত্রের মধ্যে, এবং কাজের ভাষা কথার ভাষার চেয়ে অনেক বেশি স্পষ্ট ও কার্যকরী।

হাওজা নিউজ এজেন্সির রিপোর্ট অনুযায়ী, হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলেমিন মোহসেন আব্বাসী ওয়ালদি তার একটি রচনায় "ফিতনার ঘটনাসমূহের লালন-পালনগত বিশ্লেষণ" বিষয়ে আলোচনা করেছেন, যা চিন্তাশীল ব্যক্তিদের সামনে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

যেসব পিতা-মাতা নিজের আচরণে মহানুভবতার নৈতিকতা মেনে চলেন না, তাদের এই ভ্রান্ত ধারণা করা উচিত নয় যে শুধুমাত্র নির্দেশ ও উপদেশ দিয়ে তারা তাদের শিশুদের মধ্যে উত্তম চরিত্র গড়ে তুলতে পারবেন।

এমন পিতা-মাতার উচিত একবারে চিরতরে এই বিষয়টি নির্ধারণ করে নেওয়া যে লালন-পালনে আচরণ ও কাজের ভূমিকা কী?

তারা কি এই বাস্তবতা স্বীকার করেন যে শিশুদের লালন-পালনে কাজের প্রভাব, কথার চেয়ে অনেক বেশি এবং কথার আগে হয়?

এই কথাটি সবসময় স্মরণ রাখবেন: যে নিজে মহানুভব আচরণ করে না, সে মহানুভবতা শিক্ষাও দিতে পারে না।

আমীরুল মুমিনীন হযরত আলী (আ.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি নিজেকে লোকদের নেতা বানায়, তার উচিত অন্যদের সংশোধনের আগে নিজেকে সংশোধন করা। এবং লোকদেরকে ভাষা দিয়ে শিষ্টাচার শিক্ষা দেওয়ার আগে, নিজের কাজের মাধ্যমে তাদেরকে শিষ্টাচার শিক্ষা দেওয়া। যে ব্যক্তি নিজেই নিজের শিক্ষক ও গুরু, সে অন্যকে শিক্ষাদানকারী ব্যক্তির চেয়ে বেশি সম্মানের অধিকারী।" (নাহজুল বালাগা, হিকমত ৭৩)

এই কথাটিও কখনো ভুলবেন না যে, কথার কার্যকারিতার রহস্য লুকিয়ে থাকে চরিত্রের মধ্যে।

এই প্রসঙ্গে আমীরুল মুমিনীন হযরত আলী (আ.) এর আরও একটি বাণী রয়েছে: "সেই উপদেশ যা কান প্রত্যাখ্যান করে না এবং যার সমতুল্য কোনো উপকার নেই, তা হলো জিহ্বা নীরব থাকে আর কাজ কথা বলতে শুরু করে।" (গুরারুল হিকাম ও দুরারুল কালাম, পৃষ্ঠা ৩২১)

উৎস: "মান-ই দিগার মা" বই থেকে নির্বাচিত।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha